সিলেটে চোরাচালানবিরোধী তল্লাশিতে পর্যটকদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। সড়ক ও রেলপথে ব্যাগেজ তল্লাশি নিয়ে ক্ষোভ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্যও রয়েছে।
চোরাচালানবিরোধী অভিযানের নামে হয়রানির অভিযোগ পর্যটকদের; আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, অবৈধ পণ্য বহন ঠেকাতেই তল্লাশি
সিলেটে চোরাচালানবিরোধী তল্লাশিকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের দুর্ভোগ ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। জাফলং, কোম্পানীগঞ্জসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র থেকে ফেরার পথে সড়ক ও রেলপথে পর্যটকদের ব্যাগেজ তল্লাশি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ভ্রমণকারী। এতে অনেকেই বিব্রত ও ক্ষুব্ধ হয়ে পড়ছেন।
সম্প্রতি জাফলং থেকে কেনা একটি কম্বল নিয়ে ফেরার পথে তল্লাশির মুখে পড়ার অভিযোগ করেছেন পর্যটক সাইফুল ইসলাম। তাঁর ভাষ্য, জাফলং থেকে ২ হাজার ১০০ টাকা দিয়ে কম্বল কেনার পর কাটাগাং এলাকায় একটি বাস থেকে তাঁকে নামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশি করা হয়। বিষয়টি তাঁর কাছে অস্বস্তিকর ও হয়রানিমূলক মনে হয়েছে।
এদিকে সদ্যবিবাহিত মিনহাজুল আবেদিন ও রোজিনা বেগম জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ট্রেনে ভ্রমণের সময় রেলওয়ে পুলিশের তল্লাশির মুখে পড়ার অভিযোগ করেছেন। তাঁদের লাগেজও পরীক্ষা করা হয় বলে জানান তারা।
পর্যটকদের অভিযোগ, শুধু জাফলং বা রেলপথ নয়, সিলেট-জাফলং, সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানেও তল্লাশির কারণে ভ্রমণকারীদের বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে ভ্রমণ করা পর্যটকদের ক্ষেত্রে এমন তল্লাশি তাঁদের ভ্রমণের স্বাভাবিক আনন্দ নষ্ট করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
পর্যটকদের কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ভারতীয় প্রসাধনী, কম্বল, জিরাসহ বিভিন্ন পণ্য প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে। অথচ এসব পণ্য কিনে ফেরার পথে সাধারণ পর্যটকদের তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে হচ্ছে। ফলে চোরাচালানবিরোধী অভিযানে প্রকৃত চোরাকারবারিদের পাশাপাশি সাধারণ পর্যটকরাও হয়রানির শিকার হচ্ছেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, চোরাচালান প্রতিরোধে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। কোনো পর্যটক যাতে অযথা হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও নজর রাখা হচ্ছে।
হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার দীপক জ্যোতি খীসা বলেন, পর্যটকদের হয়রানি করার কোনো সুযোগ নেই। এমন কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রেলওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার জান্নাত আফরোজ বলেন, পর্যটকরাও কখনো কখনো চোরাচালানের পণ্য বহন করতে পারেন। তাই সন্দেহ হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তল্লাশি করতে হয়। তবে পরিবার নিয়ে ভ্রমণকারী সাধারণ পর্যটকদের অযথা হয়রানি করা উচিত নয়।
সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মাসুদ রানা বলেন, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। পর্যটকেরা যে পণ্য বহন করছেন, সেগুলোর বৈধতা এবং তল্লাশির প্রয়োজনীয়তা—দুই বিষয়ই গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।
সিলেটের পর্যটন খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চোরাচালান প্রতিরোধ অবশ্যই জরুরি। তবে এর পাশাপাশি পর্যটনবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রকৃত চোরাচালানকারী ও সাধারণ পর্যটকের মধ্যে পার্থক্য করা না গেলে সিলেটের পর্যটন খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।





