মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে শিল্পে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিকের আশা প্রধানমন্ত্রীর

মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে শিল্প-কারখানায় গ্যাস সরবরাহ দেড় মাস আগের অবস্থায় ফেরার আশা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এলএনজি টার্মিনালের সমস্যার সমাধান হয়েছে দাবি; গ্যাস ঘাটতি মোকাবিলায় তৃতীয় ভাসমান টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ

শিল্প-কারখানায় গ্যাস সরবরাহ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা থেকে দেড় মাস আগের অবস্থায় ফিরে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংকট মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যবসায়ী নেতা ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে ব্যবসায়ী নেতা ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টার মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সভায় দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, সংকটের কারণ এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।

সভায় ‘বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শীর্ষক একটি উপস্থাপনা দেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

এলএনজি টার্মিনালের সমস্যায় গ্যাস সংকট

বর্তমান গ্যাস সংকটের পেছনে দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটিতে দুর্ঘটনাজনিত সমস্যাকে দায়ী করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, এর ফলে গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়, যার প্রভাব পড়ে শিল্প-কারখানাসহ বিভিন্ন খাতে।

তবে ওই দুর্ঘটনার কারণে সৃষ্ট সমস্যা ইতোমধ্যে সমাধান হয়েছে বলে জানান তিনি। এর ফলে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে গ্যাস সরবরাহ এক থেকে দেড় মাস আগের অবস্থায় ফিরবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

আসছে তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল

ভবিষ্যতে গ্যাসের ঘাটতি মোকাবিলায় তৃতীয় একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগের কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে নতুন টার্মিনাল স্থাপনের প্রস্তুতি অনেকটাই এগিয়েছে। দ্রুত এর কার্যক্রম শুরু হবে। ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন টার্মিনালটি গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার আশা করছে সরকার।

‘ছয় মাস বা এক বছরে সংকট পুরোপুরি সমাধান সম্ভব নয়’

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকটকে দীর্ঘদিনের এবং উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, এত বড় সংকট ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেছে এবং সমস্যা সমাধানে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এখন সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে।

সরকারের সামনে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা রয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাস্তবায়নের সময় কিছুটা এদিক-সেদিক হতে পারে। তবে পরিকল্পনা ও লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত রয়েছে।

ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রভাব পড়বে অর্থনীতিতে

ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিল্প ও ব্যবসা খাত ক্ষতিগ্রস্ত হলে এর প্রভাব সামগ্রিক অর্থনীতিতে পড়ে। তাই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের সমাধান শুধু ব্যবসায়ীদের স্বার্থের বিষয় নয়; এর সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিও সরাসরি জড়িত।

২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য অর্জন করতে হলে পর্যাপ্ত ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ-জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অস্থিতিশীলতা না করার আহ্বান

সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা তৈরি না করে সরকারকে তার পরিকল্পিত কাজ শেষ করার সুযোগ দেওয়া উচিত।

তিনি বলেন, জনগণ সময়মতো সিদ্ধান্ত নেবে কাকে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব দেবে। তবে যে সরকার যখন দায়িত্বে থাকে, তাকে তার পরিকল্পিত কাজ সম্পন্ন করার সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

গণমাধ্যমের সহযোগিতাও চান প্রধানমন্ত্রী

সরকারের পরিকল্পনা ও কর্মসূচি সম্পর্কে গণমাধ্যমকে পরিষ্কার ধারণা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, সরকারি পরিকল্পনা সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য না থাকলে বিচ্ছিন্ন তথ্য থেকে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।

গণমাধ্যম সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেলে তা দেশবাসীর সামনে যথাযথভাবে তুলে ধরতে পারবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, শিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিনসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও সভায় অংশ নেন।