শান্তিগঞ্জে নৌকাবাইচ ঘিরে দুই পক্ষের টানাপোড়েন, বন্ধের দাবি

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে নৌকাবাইচ আয়োজনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সংঘাতের আশঙ্কায় বন্ধের দাবি জানাল এক পক্ষ।

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে নৌকাবাইচ আয়োজনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কায় নৌকাবাইচ বন্ধের দাবি জানিয়ে উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। তবে আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কয়েকটি গ্রামের সমন্বয়ে নিয়মিতভাবেই এ আয়োজন করা হচ্ছে এবং সংঘাতের কোনো আশঙ্কা নেই।

আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর শান্তিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের ঢালমাইশা গ্রামের দক্ষিণের খাই হাওরে নৌকাবাইচ আয়োজনের কথা রয়েছে। এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে বীরগাঁও ও ঢালমাইশা গ্রামের মধ্যে বিরোধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নৌকাবাইচকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন পোস্ট ও মন্তব্য করা হয়েছে। এসব পোস্টে একে অপরের বিরুদ্ধে হুমকিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এতে আয়োজনের দিন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় একটি পক্ষ।

এ অবস্থায় নৌকাবাইচ বন্ধের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেছেন প্যানেল চেয়ারম্যান রুজেল আহমদ। আবেদনের অনুলিপি শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছেও দেওয়া হয়েছে।

আবেদনকারী পক্ষের দাবি, নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের মানুষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তাই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে অনুষ্ঠানটি বন্ধ করা প্রয়োজন।

তবে আয়োজকদের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। আয়োজক আবুল হোসেনের ভাই আলী হোসেন বলেন, গত বছরও পাঁচটি গ্রামের মানুষের সমন্বয়ে নৌকাবাইচ আয়োজন করা হয়েছিল। এবারও একইভাবে কয়েকটি গ্রামের লোকজনের অংশগ্রহণে আয়োজন করা হচ্ছে। তাদের মতে, অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সংঘাতের আশঙ্কা নেই।

এ বিষয়ে শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিল্লোল চাকমা বলেন, নৌকাবাইচ আয়োজন নিয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পরিস্থিতির অবনতি বা শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হবে না। তবে নৌকাবাইচ এ অঞ্চলের একটি ঐতিহ্যবাহী আয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসনের উদ্যোগে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা করে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধান করা হবে এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ছাড়াই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।