ডিজেলের মজুত বাজারে ছাড়তে ফ্রান্স ও জার্মানির ওপর চাপ দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। সহযোগিতা না করলে যুক্তরাষ্ট্রের ডিজেল রপ্তানি বন্ধের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহ সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির মধ্যে ইউরোপের মিত্র দেশগুলোর ওপর চাপ বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ফ্রান্স ও জার্মানিকে জরুরি মজুত থেকে ডিজেল বাজারে ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এ বিষয়ে সহযোগিতা না করলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল রপ্তানি সীমিত বা বন্ধ করার সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আগামী ছয় মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে প্রায় ১২ কোটি ব্যারেল ডিজেল মজুত থেকে ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছে। ওয়াশিংটনের এই উদ্যোগের লক্ষ্য বিশ্ববাজারে সরবরাহ বাড়িয়ে জ্বালানির দাম কমানো।
ফ্রান্স-জার্মানির মজুতেই নজর
ইউরোপীয় ইউনিয়নের কৌশলগত ডিজেল মজুতের বড় অংশ রয়েছে ফ্রান্স ও জার্মানিতে। সর্বশেষ উপলভ্য তথ্য অনুযায়ী, জার্মানির মজুত প্রায় ৫৬ লাখ টন এবং ফ্রান্সের ৮২ লাখ টন। দুই দেশ মিলে ইইউর মোট জরুরি ডিজেল মজুতের প্রায় ৩৫ শতাংশ ধরে রেখেছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের চাওয়া ১২ কোটি ব্যারেল ছাড়ার পরিমাণ ইইউর বর্তমান জরুরি ডিজেল ও গ্যাসঅয়েল মজুতের ৪০ শতাংশেরও বেশি হতে পারে। ফলে এত বড় পরিমাণ জ্বালানি বাজারে ছাড়ার বিষয়টি ইউরোপের জন্য কৌশলগত সিদ্ধান্তের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইউরোপে জরুরি বৈঠক
যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মধ্যে ইউরোপীয় কমিশন, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, আয়ারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধিরা জ্বালানি মজুত নিয়ে আলোচনা করেছেন। ইউরোপের সামনে এখন একদিকে বাজারে ডিজেলের সরবরাহ বাড়ানোর চাপ, অন্যদিকে ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলায় পর্যাপ্ত জরুরি মজুত ধরে রাখার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ) এর আগে কৌশলগত মজুত থেকে তেল ছাড়ার বিষয়ে একটি সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছিল। তবে ইউরোপীয় দেশগুলোর কোন দেশ কতটা মজুত ছাড়বে, সে বিষয়ে আরও আলোচনা চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের চাপ কেন বাড়ছে
যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম কমানোর বিভিন্ন উদ্যোগের অংশ হিসেবেই ইউরোপকে মজুত ডিজেল ছাড়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেছেন, ফসল কাটার মৌসুম ও শীতকালীন হিটিং অয়েলের চাহিদা সামনে রেখে ডিজেলের সরবরাহ বাড়ানো জরুরি। ইউরোপ দ্রুত মজুত ছাড়বে বলেও তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেছেন।
এর আগে মার্চে আইইএর সদস্য দেশগুলো বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় মোট ৪০ কোটি ব্যারেল কৌশলগত মজুত ছাড়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের অংশ ছিল ১৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল। ওয়াশিংটনের দাবি, ইউরোপের কয়েকটি দেশ তাদের প্রতিশ্রুতির পুরোটা এখনো বাস্তবায়ন করেনি।
বিশ্ববাজারে ডিজেল সরবরাহে চাপ
মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহে বিঘ্ন, রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা এবং চীনের জ্বালানি রপ্তানি স্থগিতের মতো ঘটনাগুলো বৈশ্বিক ডিজেল বাজারে চাপ বাড়িয়েছে। এসব কারণে ইউরোপসহ বিভিন্ন বাজারে ডিজেলের দাম রেকর্ড বা রেকর্ডের কাছাকাছি পর্যায়ে উঠেছে।
এই পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় দেশগুলোর মজুত থেকে জ্বালানি ছাড়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ আরও বেড়েছে। তবে কৌশলগত মজুত কমিয়ে দিলে ভবিষ্যতে সরবরাহ পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে ইউরোপের হাতে জরুরি সুরক্ষা কতটা থাকবে—সেটিও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।





