হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের চার চা-বাগানে তিন সপ্তাহের মজুরি বকেয়া। প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ জমাসহ পাঁচ দফা দাবিতে বিক্ষোভ ও স্মারকলিপি দিয়েছেন শ্রমিকেরা।
তিন সপ্তাহের মজুরি বকেয়া, দুই জেলায় চা-শ্রমিকদের বিক্ষোভ
বকেয়া পরিশোধ ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ জমাসহ পাঁচ দফা দাবি, জেলা প্রশাসকদের কাছে স্মারকলিপি
টানা তিন সপ্তাহের মজুরি ও ভাতা না পেয়ে আর্থিক সংকটে পড়েছেন হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের কয়েকটি চা-বাগানের শ্রমিকেরা। বকেয়া মজুরি পরিশোধ, প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ জমা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবিতে দুই জেলার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছেন তাঁরা। রোববার পৃথক কর্মসূচি শেষে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঁচ দফা দাবিতে স্মারকলিপি দেন শ্রমিক প্রতিনিধিরা।
দেউন্দি টি কোম্পানির আওতাধীন দেউন্দি, লালচান্দ, নোয়াপাড়া ও মিরতিংগা চা-বাগানের শ্রমিকেরা এসব কর্মসূচিতে অংশ নেন। তাঁদের দাবি, চারটি বাগানের প্রায় ১৫ হাজার শ্রমিক ও তাঁদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক ও নানা নাগরিক সুবিধার সংকটে ভুগছেন।
মজুরি বকেয়া প্রায় ৬ কোটি টাকা
শ্রমিকদের স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, প্রত্যেক শ্রমিকের প্রায় ৪ হাজার টাকা করে মজুরি বকেয়া রয়েছে। সব মিলিয়ে বকেয়ার পরিমাণ প্রায় ৬ কোটি টাকা। পাশাপাশি শ্রমিকদের মজুরি থেকে কেটে রাখা প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ এবং মালিকপক্ষের নির্ধারিত অংশ ৪৭ মাস ধরে জমা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
শ্রমিকেরা আরও জানান, বাগানে প্রয়োজনীয় ওষুধের অভাবে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। শ্রমিকদের বাসস্থান সংস্কারের কাজও বন্ধ রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে তাঁরা দ্রুত বকেয়া পরিশোধ ও প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
২০২২ সাল থেকে বঞ্চনার অভিযোগ
দেউন্দি টি কোম্পানি পঞ্চায়েতের সভাপতি আপন সাঁওতাল বলেন, ২০২২ সাল থেকে শ্রমিকেরা তাঁদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বাগানে কর্মবিরতি পালন করেও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় তাঁরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছেন এবং পাঁচ দফা দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছেন।
দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। একই ধরনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পঞ্চায়েতের সাধারণ সম্পাদক ও ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য দুলাল ঘোষ।
ব্যাংক ঋণ না পাওয়ার কথা কোম্পানির
দেউন্দি টি কোম্পানির ব্যবস্থাপক মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ব্যাংক ঋণ না পাওয়ায় কোম্পানি আর্থিক সমস্যায় পড়েছে। কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির কারণে বাগান পরিচালনায় সংকট তৈরি হয়েছে। তবে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
নোয়াপাড়া চা-বাগানের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক মো. সোহাগ আহমেদ তিন সপ্তাহের মজুরি ও ভাতা বকেয়া থাকার কথা স্বীকার করেন। তিনি জানান, শ্রমিকদের কাছে সময় চাওয়া হয়েছে এবং বকেয়া পরিশোধের চেষ্টা চলছে।
লালচান্দ চা-বাগানের ব্যবস্থাপক মো. ফখরুল ইসলাম ফরিদি বলেন, ২০১৮ সালে অগ্নিকাণ্ডে কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকে ব্যাংক ঋণ পেতে বিলম্ব হচ্ছে। তবে শ্রমিকদের উৎসব বোনাস দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক ঋণ অনুমোদন পেলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সংকট সমাধানে উদ্যোগের আশ্বাস
হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জি এম সরফরাজ বলেন, বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বসে সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি, প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সংকটের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতির ওপর নজর রাখার দাবি জানিয়েছেন শ্রমিক প্রতিনিধিরা।





