ইরানে নতুন হামলার আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মোজতবা খামেনি। ওয়াশিংটন বলছে, সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য নতুন সামরিক হামলার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সামরিক কমান্ডারদের যেকোনো হুমকির তাৎক্ষণিক ও জোরালো জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে হামলার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ফলে সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে।
আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এর পর ইরানে আবারও সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে—এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে রুবিও বলেছেন, কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ থাকলে ওয়াশিংটন তাতে আগ্রহী।
তাৎক্ষণিক জবাবের নির্দেশ খামেনির
ইরানের রাষ্ট্রীয় বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশটির শীর্ষ সামরিক কমান্ডারদের সঙ্গে এক বৈঠকে মোজতবা খামেনি যেকোনো ধরনের হুমকির তাৎক্ষণিক, জোরালো ও ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতাহীন জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
সামরিক কমান্ডারদের হামলার লক্ষ্যবস্তুর তালিকা হালনাগাদ করারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মালিকানাধীন দৃশ্যমান ও অদৃশ্য সম্পদ অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এটিই মোজতবা খামেনির প্রথম প্রকাশ্য বৈঠক।
সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি কূটনীতির চেষ্টা
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর বিষয়ে ট্রাম্প এখনো সিদ্ধান্ত নেননি। তাঁর ভাষ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট কূটনৈতিক সমাধান চান; তবে প্রয়োজন হলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতাও যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে।
এদিকে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে কাতারের মধ্যস্থতায় আলোচনা চলছে। ৩১ অক্টোবর দোহায় ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের বৈঠক হয়। সংঘাত বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার উপায় নিয়ে আলোচনার খবর পাওয়া গেছে।
তবে আলোচনার অগ্রগতি ও সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। <Cite refs={["turn359999news24","turn359999search5"]}/>
হরমুজ প্রণালি ঘিরে উদ্বেগ
ইরান যুদ্ধের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে। বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ, হামলা ও নিরাপত্তাঝুঁকি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, শনিবার প্রণালিটি অতিক্রম করার সময় মাইন বিস্ফোরণে একটি জাহাজে আগুন ধরে যায়। এর আগের দিন ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছিল, তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারকে যাত্রা বন্ধ করতে হয়েছে। এসব ঘটনার স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও অন্যান্য জ্বালানির সরবরাহে চাপ তৈরি হতে পারে। এর প্রভাব পরিবহন ব্যয় ও বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতেও পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
যুদ্ধ নিয়ে ইরানিদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া
দীর্ঘ সংঘাত ও অনিশ্চয়তার মধ্যে ইরানের সাধারণ মানুষের মধ্যেও ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন, আবার কেউ দীর্ঘদিনের সংঘাতের অভিজ্ঞতার কারণে পরিস্থিতিকে স্বাভাবিকভাবে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
তেহরানের বাসিন্দা ইব্রাহিমের বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধ ও সংঘাতের মধ্যে বসবাস করায় নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা তাঁকে আগের মতো ভীত করে না।
তবে সামরিক হুমকি, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের সংকট এবং কূটনৈতিক আলোচনার অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনো উত্তেজনাপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ওয়াশিংটন কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার ওপর সংঘাতের পরবর্তী গতিপথ অনেকাংশে নির্ভর করতে পারে।





