বকেয়া ৩০ লাখ ইউরো, তুরস্কে ইরানের যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ জব্দ

ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরের প্রায় ৩০ লাখ ইউরো বকেয়া সেবা বিলের জেরে ইরানের কাসপিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি বোয়িং ৭৩৭ জব্দ করেছে তুরস্ক।

ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে বকেয়া পরিশোধ না করায় ইরানের কাসপিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজ জব্দ করেছে তুরস্কের কর্তৃপক্ষ। উড়োজাহাজটির সঙ্গে ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরের প্রায় ৩০ লাখ ইউরোর বকেয়া সেবা বিলের বিষয়টি জড়িত বলে তুরস্ক ও ইরানের গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার ইস্তাম্বুল থেকে তেহরান যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল কাসপিয়ান এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজটি। যাত্রী ওঠার পর উড্ডয়নের চূড়ান্ত প্রস্তুতির সময় আদালতের জারি করা জব্দের আদেশ কার্যকর করেন বিমানবন্দরের কর্মকর্তারা।

এ সময় উড়োজাহাজ থেকে যাত্রী ও ক্রুদের নামিয়ে টার্মিনালে নেওয়া হয়। পরে উড়োজাহাজটির বিরুদ্ধে জব্দ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।

বকেয়া বিমানবন্দর সেবা বিল

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে দেওয়া বিভিন্ন সেবার বিপরীতে কাসপিয়ান এয়ারলাইন্সের প্রায় ৩০ লাখ ইউরো বকেয়া রয়েছে। এ বকেয়া আদায়ের জন্য আদালতের আদেশের ভিত্তিতেই উড়োজাহাজটি আটকে দেওয়া হয়েছে।

তুরস্কের একজন সরকারি কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, ঘটনাটি একটি ‘বাণিজ্যিক বিরোধের’ সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে এর বিস্তারিত তিনি জানাননি।

কাসপিয়ান এয়ারলাইন্স অবশ্য ঘটনাটিকে প্রশাসনিক জটিলতা হিসেবে উল্লেখ করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, ইস্তাম্বুল থেকে তেহরানগামী একটি উড়োজাহাজের পরিচালনায় সাময়িক স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ইস্তাম্বুল বিমানবন্দর সেবা বাবদ বকেয়া ৩০ লাখ ইউরোর হিসাব নিষ্পত্তিতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দ্রুতই উড়োজাহাজটি ইরানে ফিরে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছে তারা।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে সম্পর্ক নেই

ইরানি বিমানটি জব্দের ঘটনা সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নতুন নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয় বলে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ও ইরানি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

চলতি মাসের শুরুতে ইরানের বিমান সংস্থাগুলোর ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এসব নিষেধাজ্ঞার আওতায় ইরানি এয়ারলাইন্সের সঙ্গে বাণিজ্য করা প্রতিষ্ঠানগুলো ডলারভিত্তিক আন্তর্জাতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে।

তবে তুরস্ক ইরানের সঙ্গে বিমান যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ করেনি। ইরান এয়ারসহ কয়েকটি ইরানি বিমান সংস্থা দুই দেশের মধ্যে যাত্রীবাহী ফ্লাইট পরিচালনা করছে।

অন্যদিকে ইরানের মহান এয়ার জানিয়েছে, আঙ্কারার অনুরোধের পর তুরস্কে তাদের সব ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।