গ্রিসের এথেন্সের প্লাকা এলাকায় বিস্ফোরণে তিনতলা ভবন ধসে ছয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চার মার্কিন ও এক ব্রিটিশ নাগরিক রয়েছেন।
গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের ঐতিহাসিক প্লাকা এলাকায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে একটি তিনতলা ভবন ধসে ছয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চারজন মার্কিন নাগরিক, একজন ব্রিটিশ নাগরিক এবং একজন গ্রিক নাগরিক রয়েছেন।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) অ্যাক্রোপলিসের কাছাকাছি পর্যটনকেন্দ্রিক এলাকায় এ বিস্ফোরণ ঘটে। প্রাথমিকভাবে গ্যাস লিকেজ থেকেই বিস্ফোরণের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিস্ফোরণের তীব্রতায় ভবনটি পুরোপুরি ধসে পড়ে। আশপাশের কয়েকটি ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ধ্বংসাবশেষ সড়কজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তার কারণে পার্শ্ববর্তী কয়েকটি ভবনের বাসিন্দাদেরও সরিয়ে নেওয়া হয়।
রয়টার্স স্থানীয় পুলিশের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, নিহত চার মার্কিন নাগরিক ছিলেন পর্যটক। শুক্রবার এথেন্স বিমানবন্দর থেকে তাদের নির্ধারিত ফ্লাইটে না ওঠায় পুলিশ তাদের নিখোঁজ হিসেবে শনাক্ত করে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। উদ্ধারকর্মীরা খননযন্ত্র ও তাপ শনাক্তকারী ক্যামেরা ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপের নিচে আর কেউ আটকা পড়ে আছেন কি না, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেন। পরে ধ্বংসস্তূপ থেকে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত গ্রিক নাগরিক ছিলেন ওই ভবনে বসবাসকারী এক বয়স্ক দম্পতির একজন। বিস্ফোরণের পর ছিটকে পড়া ধ্বংসাবশেষে আশপাশের এলাকায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
প্লাকা এথেন্সের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা। ঘটনাস্থলটি অ্যাক্রোপলিস ও টেম্পল অব অলিম্পিয়ান জিউসের মাঝামাঝি একটি সরু সড়কে অবস্থিত হওয়ায় বিস্ফোরণের পর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
এথেন্সের মেয়র হারিস দুকাস ঘটনাটিকে ‘অবিশ্বাস্য বিপর্যয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
এদিকে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দফতরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, এথেন্সে সন্দেহভাজন বিস্ফোরণের বিষয়ে তারা অবগত এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।
ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং বিস্ফোরণের আগে ভবনটিতে গ্যাস লিকেজ কীভাবে ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: বিবিসি





