জাতিসংঘে ট্রাম্পের কড়া বার্তা: ইরানকে ধ্বংসের হুমকি, এআইয়ের নতুন নাম ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’

জাতিসংঘে ভাষণে ইরানকে ধ্বংসের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। ইউক্রেন যুদ্ধ, কিউবা ও এআই নিয়ে দিয়েছেন নানা বার্তা; এআইয়ের নতুন নাম ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ইরান, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, কিউবা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে একের পর এক কঠোর বক্তব্য দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে দেওয়া প্রায় ৩৭ মিনিটের ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি না হলে দেশটিকে ‘ধ্বংস’ করার মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন তিনি। একই সঙ্গে আগামী নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা হতে পারে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ইরানকে ধ্বংসের হুমকি

ভাষণের শুরুতেই ইরান প্রসঙ্গ তুলে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামনে এখন একটি বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয় রয়েছে—ইরানের সঙ্গে চুক্তি হবে, নাকি দেশটির বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ট্রাম্পের ভাষ্য, ইরানকে এমনভাবে ধ্বংস করা হতে পারে, যাতে দেশটির আর পুনর্গঠনের সুযোগ না থাকে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর একটি চুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে।

ভাষণের পর ট্রাম্প জানান, জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রায় তিন ঘণ্টা বৈঠক হয়েছে। তবে আলোচনার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও আশাবাদ

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, মস্কো ও কিয়েভের নেতাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে এবং শিগগিরই যুদ্ধের সমাধান হতে পারে।

তিনি বলেন, বিষয়টি মানুষের ধারণার চেয়েও দ্রুত সমাধান হতে পারে। তবে তাঁর বক্তব্যে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বা সম্ভাব্য চুক্তির কাঠামো তুলে ধরা হয়নি।

আট যুদ্ধ বন্ধের দাবি

নিজের প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতির সাফল্য তুলে ধরতে গিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি আটটি যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছেন।

এর আগে গত বছর জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে তিনি সাতটি সংঘাত বন্ধ করার দাবি করেছিলেন। তবে এসব দাবির কয়েকটি নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিবেদনে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। ট্রাম্পের দাবি করা সমঝোতাগুলোর সবগুলোকে আনুষ্ঠানিক শান্তিচুক্তি হিসেবে বিবেচনা করা যায় কি না, তা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে।

ট্রাম্পের বক্তব্যে কিউবা, প্রতিনিধিদলের ওয়াকআউট

কিউবার পরিস্থিতি নিয়েও কঠোর মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি দেশটিকে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, সেখানে মৌলিক পরিবর্তনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র কাজ করছে এবং দেশটির বর্তমান ব্যবস্থা শেষ পর্যন্ত পতনের মুখে পড়বে।

ট্রাম্পের বক্তব্যের সময় কিউবার প্রতিনিধিদল অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যায়। ট্রাম্প বলেন, তাঁর প্রশাসন কিউবার বিষয়ে চাপ অব্যাহত রাখবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বদলে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’

ভাষণের অন্যতম আলোচিত অংশ ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য। এআই খাতে নতুন আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণ আরোপের বিরোধিতা করেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, এআই নিয়ে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তির বিকাশ বাধাগ্রস্ত করতে পারে। তিনি আরও ঘোষণা দেন, মার্কিন সরকারের নথিপত্র ও যোগাযোগে ‘Artificial Intelligence’ শব্দের পরিবর্তে ‘Super Intelligence’ শব্দ ব্যবহারের দিকে যাওয়া হবে।

তিনি দাবি করেন, এআই প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র অন্য দেশগুলোর তুলনায় এগিয়ে রয়েছে এবং এই খাতের বিকাশে বাধা দিতে চান না। প্রয়োজনে মার্কিন বিচার বিভাগ এআই কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম তদারক করতে পারে বলেও জানান তিনি।

ট্রাম্পের এ অবস্থানের বিপরীতে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস একই অধিবেশনে এআইয়ের ঝুঁকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তদারকি ও অভিন্ন কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।

অর্থনীতি ও অভিবাসনেও নিজের সাফল্যের দাবি

ভাষণের শুরুতে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ও সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর প্রশাসনের বিভিন্ন পদক্ষেপের সাফল্য তুলে ধরেন।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ভাষণের একটি বড় অংশে ট্রাম্প তাঁর অভ্যন্তরীণ নীতির সাফল্য তুলে ধরেছেন, যা আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটেও তাৎপর্যপূর্ণ।