সিলেটের হাসপাতালে ছাত্রলীগ নেতা ও পরিবারের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার

সুনামগঞ্জে পুলিশ হেফাজত থেকে ছাত্রলীগ নেতাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার ঘটনায় সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে একই পরিবারের পাঁচ সদস্যসহ আটজন গ্রেপ্তার হয়েছেন।

সুনামগঞ্জে পুলিশ হেফাজত থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের এক নেতাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার ঘটনায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্যসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (৩১ অক্টোবর) দিবাগত রাতে সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

রোববার (১ নভেম্বর) সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রতন শেখ গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার যাঁরা

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সুনামগঞ্জ পৌর শহরের তেঘরিয়া এলাকার দেওয়ান শাহরুখ রাজা চৌধুরী (৪৬), তাঁর ছেলে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্স (২০), স্ত্রী শাম্মী আক্তার পলি (৩৮), আরেক ছেলে দেওয়ান শাহরিয়ার চৌধুরী পিয়াল (২০) এবং মেয়ে সাবরিনা চৌধুরী রূপকথা (১৬)।

অন্য তিনজন হলেন দিরাই উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের শাহ আলমের ছেলে ইফাত আলম রাবিদ (২১), ছাতক উপজেলার জালালপুর গ্রামের শফিক মিয়ার ছেলে কাওছার আহমদ সোহাগ (২১) এবং গোলাপগঞ্জের বাদেশ্বর গ্রামের ওলিওর রহমান মানিকের ছেলে তাকবির রহমান তানহির (২০)।

যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে নাশকতার মামলার আসামি হিসেবে দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্সকে গ্রেপ্তার করে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় নেওয়া হয়। পরে অসুস্থ বোধ করায় তাঁকে চিকিৎসার জন্য প্রথমে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে স্থানান্তর করা হয়।

পুলিশের অভিযোগ, ওই দিন রাত দেড়টার দিকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রিন্সের পরিবারের সদস্য ও বন্ধুবান্ধবরা জড়ো হয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালান। এ সময় তাঁকে পুলিশ হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

পুলিশ আরও অভিযোগ করেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সংঘবদ্ধ হয়ে সরকারি কাজে বাধা দেন এবং পুলিশ সদস্যদের হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা ও মারধর করেন। এ ছাড়া চিকিৎসার সুযোগে প্রিন্সও পুলিশ হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলা ও আদালতে পাঠানো

এ ঘটনায় সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ফরিদ হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

ওসি মো. রতন শেখ জানান, গ্রেপ্তার আটজনকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।