মাধবপুরে সাড়ে ৩ বছর পর সেপটিক ট্যাংকে মিলল কঙ্কাল, আটক ৪

হবিগঞ্জের মাধবপুরে নিখোঁজের সাড়ে তিন বছর পর সেপটিক ট্যাংক থেকে মহব্বত আলীর কঙ্কাল উদ্ধার করেছে ডিবি পুলিশ। এ ঘটনায় আটক চারজন।

হবিগঞ্জের মাধবপুরে নিখোঁজের প্রায় সাড়ে তিন বছর পর মহব্বত আলী (৩৯) নামে এক ব্যক্তির কঙ্কাল উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার রামনগর গ্রামের একটি বাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে কঙ্কালটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।

আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে কঙ্কালটি উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

আটক চারজন

আটক ব্যক্তিরা হলেন রামনগর গ্রামের শাহ আলম (৪২), তাঁর স্ত্রী জাহানারা বেগম (৩৪), জয়নাল মিয়া ও ইয়াছিন মিয়া। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি।

২০২৩ সালে নিখোঁজ হন মহব্বত আলী

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মহব্বত আলী একই গ্রামের রুসমত আলীর ছেলে। পেশায় কৃষক হলেও স্থানীয়ভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিভিন্ন তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতেন তিনি। এ কারণে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যদাতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

২০২৩ সালের ৩০ জুলাই হঠাৎ নিখোঁজ হন মহব্বত আলী। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান পাননি। পরে এ ঘটনায় তাঁর ভাই রুসমত আলী বাদী হয়ে মাধবপুর থানায় মামলা করেন।

তদন্তের পর উদ্ধার কঙ্কাল

দীর্ঘ সময় ধরে নিখোঁজের রহস্য উদ্‌ঘাটন না হওয়ায় ঘটনাটি অমীমাংসিত ছিল। পরে দীর্ঘ অনুসন্ধান, তদন্ত ও প্রযুক্তির সহায়তায় এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চারজনকে আটক করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার রামনগর গ্রামের একটি বাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে কঙ্কালটি উদ্ধার করা হয়।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) সাইদুর রহমান জানান, দীর্ঘ তদন্তের পর এ ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের তথ্যের ভিত্তিতে সেপটিক ট্যাংক থেকে কঙ্কাল উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

কঙ্কাল উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে মহব্বত আলীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে আটক ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয় রয়েছে।