ঢাকায় জরুরি অবতরণ করা ভারতীয় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের নারী রোগী অঞ্জনা ভৌমিকের মরদেহ বুধবার তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে পাঠানো হয়েছে।
ঢাকায় জরুরি অবতরণ করা ভারতীয় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে থাকা নারী রোগী অঞ্জনা ভৌমিকের মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ভারতে পাঠানো হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে সিলেটের তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে মরদেহটি হস্তান্তর করা হয়।
তবে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে থাকা চিকিৎসক ডা. ফিরোজ খান, প্যারামেডিক আজিম খান এবং দুই সঙ্গী শান্তা ভৌমিক ও দীপ জ্যোতি মিশ্রের ভারতে ফেরার বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
সীমান্তে মরদেহ হস্তান্তর
তামাবিল স্থলবন্দর কাস্টমস ইমিগ্রেশন পুলিশের ইনচার্জ বজলুর রশিদ জানান, নিহত নারীর সঙ্গে থাকা স্বজনেরা মরদেহের সঙ্গে ভারতে গেছেন। তবে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে থাকা চার ব্যক্তি সবাই ভারতে ফিরেছেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট তালিকায় তাঁদের ভারতীয় নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রয়োজনীয় আইনি ও কূটনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে বুধবার দুপুরে অ্যাম্বুলেন্সে করে অঞ্জনা ভৌমিকের মরদেহ তামাবিল স্থলবন্দরে নেওয়া হয়। সেখানে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী ও ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।
মাঝআকাশে কেবিনের চাপ কমে যাওয়ায় জরুরি অবতরণ
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ অক্টোবর ভারতের আগরতলা থেকে এক মুমূর্ষু রোগীকে নিয়ে বিচক্রাফ্ট কিং এয়ার সি৯০এ (C90A) মডেলের একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স কলকাতার উদ্দেশে যাত্রা করে। পথে প্রায় ১২ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়োজাহাজটির কেবিনের চাপ কমে যায় এবং পেছনের দরজা আংশিক খুলে যায়।
পরিস্থিতি বিবেচনায় পাইলট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করেন। পরে অসুস্থ অঞ্জনা ভৌমিককে দ্রুত কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে থাকা পাইলট, চিকিৎসক ও স্বজনসহ অন্য আরোহীরা অক্ষত ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা
অঞ্জনা ভৌমিকের মরদেহ ভারতে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করায় তাঁর স্বজনেরা বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।





