ওসমানীতে দুই সাংবাদিক আহত, ইন্টার্নদের কর্মবিরতি

সিলেট ওসমানী হাসপাতালে তথ্য সংগ্রহের সময় দুই সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার প্রতিবাদে চৌহাট্টায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন সাংবাদিকেরা।

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে। আহত সাংবাদিকেরা হলেন সিলেট ভিউ ২৪-এর প্রতিবেদক নিবেন্দু তালুকদার ও শ্যামল সিলেটের ফটোসাংবাদিক রেজা রুবেল। এ ঘটনার পর ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা কর্মবিরতি শুরু করলে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের বর্ণনা অনুযায়ী, হাসপাতালে এক রোগীর স্বজনদের ওপর হামলার অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও ছবি তুলতে গেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিরোধ তৈরি হয়। একপর্যায়ে তাঁদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। হামলায় স্যালাইনের স্ট্যান্ড ব্যবহার করে মাথায় আঘাত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। আহত সাংবাদিকদের মাথায় সেলাই দিতে হয়েছে বলে জানা গেছে।

কর্মবিরতিতে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত

সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগের পর ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতিতে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয়। তবে কতটি বিভাগে এবং কতক্ষণ সেবা বন্ধ বা সীমিত ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে কর্মবিরতির সময় হাসপাতালে তিন রোগীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে। তবে মৃত্যুর ঘটনা, এর প্রকৃত কারণ এবং কর্মবিরতির সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না—এসব বিষয়ে নির্ভরযোগ্যভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

চৌহাট্টায় সাংবাদিকদের প্রতিবাদ

ঘটনার প্রতিবাদে রাতে সিলেট নগরের চৌহাট্টা এলাকায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন সাংবাদিকেরা। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সাংবাদিক নেতা শাহ দিদার আলম চৌধুরী নোবেল, আনিস রহমান, মহিদ হোসেন, নাসির উদ্দিন আহমদ ও মাহমুদ হোসেনসহ অন্যরা বক্তব্য দেন। তাঁরা সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় হামলার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি

ঘটনার বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে হামলার অভিযোগে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয়, ঘটনার পূর্ণ বিবরণ এবং চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার প্রকৃত মাত্রা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগের পাশাপাশি কর্মবিরতি ও রোগীদের চিকিৎসাসেবার পরিস্থিতি নিয়েও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।