আদানির গোড্ডা কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট চালু, বাড়ছে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ

কারিগরি ত্রুটি কাটিয়ে আদানির গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট চালু হয়েছে। দুই ইউনিট থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে।

কারিগরি ত্রুটির কারণে কয়েকদিন বন্ধ থাকার পর ভারতের ঝাড়খণ্ডের গোড্ডায় আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট আবারও উৎপাদনে ফিরেছে। ফলে কেন্দ্রটির দুই ইউনিট থেকেই এখন বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।

রোববার দুপুর ২টার দিকে গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে ৭৫৬ মেগাওয়াট এবং দ্বিতীয় ইউনিট থেকে ২৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশে সরবরাহ করা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দ্বিতীয় ইউনিটের উৎপাদন ধাপে ধাপে বাড়িয়ে প্রায় ৭৫০ মেগাওয়াটে নেওয়া হবে।

এর ফলে উৎপাদন স্বাভাবিক পর্যায়ে পৌঁছালে গোড্ডা কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে মোট প্রায় ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের সুযোগ তৈরি হবে। এতে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতি কিছুটা কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

কারিগরি ত্রুটিতে কমেছিল সরবরাহ

গত ৯ সেপ্টেম্বর রাত ১২টার দিকে কারিগরি সমস্যার কারণে গোড্ডা কেন্দ্রের একটি ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে দুটি ইউনিট মিলিয়ে বাংলাদেশে ঘণ্টায় ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছিল।

একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সরবরাহ কমে প্রায় ৭৫৮ মেগাওয়াটে নেমে আসে। পরে ত্রুটি মেরামত শেষে দ্বিতীয় ইউনিটটি আবার জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলো।

গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মোট উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। ৮০০ মেগাওয়াট করে দুটি ইউনিটে বিভক্ত কেন্দ্রটি থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। ২০১৭ সালে কেন্দ্রটির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি করে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)।

চাহিদা বেশি থাকার সময় গোড্ডা কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে দেড় হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহের রেকর্ড রয়েছে।

কয়লা সরবরাহেও হয়েছিল বিঘ্ন

এর আগে কয়লা সরবরাহে সমস্যার কারণে কেন্দ্রটির উৎপাদন কমে যায়। গত ৭ আগস্ট ঝড়ের কারণে কয়লা সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। আগস্টের শেষ দিকে পরিস্থিতির উন্নতি হলে কেন্দ্রটির উৎপাদনও বাড়তে শুরু করে।

পরবর্তী সময়ে দিনের বেলায় কেন্দ্রটি থেকে প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছিল।

বিদ্যুৎ ঘাটতির মধ্যে স্বস্তির সম্ভাবনা

গোড্ডা কেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ থাকার সময়ে দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতিও চাপের মধ্যে ছিল। গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৩৪৫ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ করা হয় প্রায় ১২ হাজার ৭৮৮ মেগাওয়াট। ফলে ওই সময়ে ঘাটতি ছিল ৩ হাজার ৫৫৭ মেগাওয়াট।

সেদিন গড়ে প্রতি ঘণ্টায় ২ হাজার ৬৫৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে।

এখন গোড্ডা কেন্দ্রের দুই ইউনিটই চালু থাকায় সরবরাহ পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে। দ্বিতীয় ইউনিটের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ৭৫০ মেগাওয়াটে পৌঁছালে কেন্দ্রটি থেকে মোট প্রায় ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এতে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতি কমানোর ক্ষেত্রে কেন্দ্রটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।