এলপিজির দাম পুনর্নির্ধারণে গণশুনানি করেছে বিইআরসি। ১ নভেম্বর পর্যন্ত লিখিত মতামত নেওয়ার পর প্রস্তাব ও ব্যয় পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত দেবে কমিশন।
ভোক্তাপর্যায়ে সরকারি ও বেসরকারি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম পুনর্নির্ধারণের বিষয়ে আগামী ১ নভেম্বরের পর সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঢাকায় অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে এলপিজির মূল্য পুনর্নির্ধারণ নিয়ে ব্যবসায়ী, অপারেটর, পরিবেশক ও ভোক্তা প্রতিনিধিরা নিজেদের প্রস্তাব ও মতামত তুলে ধরেন।
রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশনের শহীদ এ কে এম শামসুল হক খান মেমোরিয়াল অডিটোরিয়ামে দিনব্যাপী এ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সরকারি ও বেসরকারি এলপিজি কোম্পানি, পরিবেশক, খুচরা বিক্রেতা, অটোগ্যাস স্টেশন, ভোক্তা অধিকার সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
শুনানিতে উপস্থাপিত প্রস্তাব, ব্যয়ের হিসাব ও মতামত পর্যালোচনা করে নতুন মূল্যহার নির্ধারণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন।
লিখিত মতামত জমার সময় ১ নভেম্বর পর্যন্ত
বিইআরসি জানিয়েছে, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন, ২০০৩-এর ৩৪(৬) ধারা অনুসারে সরকারি ও বেসরকারি এলপিজির ভোক্তাপর্যায়ের মূল্য পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাবের ওপর এ গণশুনানির আয়োজন করা হয়।
শুনানিতে সরকারি প্রতিষ্ঠান এলপি গ্যাস পিএলসি, বেসরকারি আবেদনকারী এবং এলপিজি অপারেটর, ডিস্ট্রিবিউটর ও রিটেইলারদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ব্যয়ের হিসাব ও মূল্য পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। অটোগ্যাস স্টেশনগুলোর প্রতিনিধিরাও তাঁদের প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।
কমিশনের কারিগরি মূল্যায়ন দলের পক্ষ থেকে এলপিজির মূল্য নির্ধারণের আইনগত ভিত্তি, কমিশনের দায়িত্ব এবং দাম নির্ধারণে বিবেচ্য বিভিন্ন উপাদান ব্যাখ্যা করা হয়।
শুনানিতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী সংগঠন, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এবং ভোক্তারা নিজেদের পর্যবেক্ষণ ও মতামত জানান।
গণশুনানির পরও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর লিখিত মতামত দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। আগামী ১ নভেম্বর পর্যন্ত এসব মতামত কমিশনে জমা দেওয়া যাবে।
প্রস্তাব ও ব্যয়ের হিসাব পর্যালোচনা করবে কমিশন
বিইআরসির বক্তব্য অনুযায়ী, আবেদনকারীদের প্রস্তাব, কারিগরি মূল্যায়ন দলের প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মতামত পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করেই সরকারি ও বেসরকারি এলপিজির ভোক্তাপর্যায়ের নতুন মূল্যহার নির্ধারণ করা হবে।
তবে গণশুনানিতে অংশ নেওয়া পক্ষগুলোর কোনো প্রস্তাবই চূড়ান্ত মূল্য হিসেবে বিবেচিত হবে না। কমিশনের পর্যালোচনা ও সিদ্ধান্তের পরই নতুন দাম সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার পাওয়া নিয়ে অভিযোগ
দেশে রান্নার কাজে বহুল ব্যবহৃত এলপিজির দাম ও বাজারে এর প্রাপ্যতা নিয়ে ভোক্তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ রয়েছে। বিইআরসি প্রতি মাসে এলপিজির দাম ঘোষণা করলেও বাজারে অনেক সময় নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ ওঠে।
আমদানি ও সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকার দাবি থাকলেও খুচরা পর্যায়ে ঘোষিত দামে সিলিন্ডার না পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। ফলে শুধু মূল্য নির্ধারণ নয়, বাজারে সেই দাম কার্যকর হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করাও ভোক্তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
যেসব বিষয় প্রভাব ফেলে এলপিজির দামে
এলপিজির মূল্য নির্ধারণে আন্তর্জাতিক বাজারদর, ডলারের বিনিময় হার, আমদানি ও পরিবহন ব্যয় এবং অপারেটরদের অন্যান্য খরচ বিবেচনায় নেওয়া হয়। এর পাশাপাশি পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন এবং বিপণন পর্যায়ের ব্যয়ও মূল্য কাঠামোর অংশ।
এ অবস্থায় নতুন দাম নির্ধারণের আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ব্যয়ের যৌক্তিকতা যাচাই এবং ভোক্তাদের স্বার্থ বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। গণশুনানিতে পাওয়া প্রস্তাব ও মতামত বিশ্লেষণের পর বিইআরসির সিদ্ধান্তের দিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্টদের।





