দুর্গাপূজার টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে সিলেটে পর্যটকের ভিড় বেড়েছে। হোটেল-রিসোর্টে কক্ষসংকটের পাশাপাশি প্রাইভেট কারের ভাড়া বৃদ্ধির অভিযোগ উঠেছে।
শারদীয় দুর্গাপূজার টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলো। নগরীর চা বাগান থেকে শুরু করে জেলার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে বাড়ছে মানুষের ভিড়। পর্যটকদের চাপে জেলার পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টের অধিকাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে যাওয়ায় শেষ মুহূর্তে আসা অনেকেই পড়েছেন আবাসনসংকটে। কেউ স্বজনের বাসায় উঠছেন, আবার কেউ বাধ্য হয়ে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার প্রাঙ্গণে রাত কাটানোর চেষ্টা করছেন।
আবাসনসংকটের পাশাপাশি প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাসের ভাড়া বাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে বেড়াতে আসা পর্যটকদের ভ্রমণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ভোগান্তিও বাড়ছে।
চা বাগানে দর্শনার্থীদের ভিড়
বুধবার (২১ অক্টোবর) সিলেট নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মালনীছড়া, লাক্কাতুরা ও তারাপুর চা বাগানে পর্যটকদের ব্যাপক উপস্থিতি। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পরিবার, বন্ধু ও স্বজনদের নিয়ে আসা দর্শনার্থীরা চা-গাছের সারি, সবুজ টিলা ও প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করছেন। অনেকে ছবি ও সেলফি তুলতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।
চা বাগানের পাশাপাশি ভোলাগঞ্জের সাদাপাথর, জাফলং, বিছনাকান্দি, রাতারগুল ও লালাখালসহ জেলার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রেও পর্যটকদের ভিড় বেড়েছে।
হোটেল না পেয়ে মাজারে রাত কাটানোর চেষ্টা
পর্যটকদের বাড়তি চাপের কারণে সিলেট নগরীর জিন্দাবাজার, তালতলা, আম্বরখানা, বন্দরবাজার ও শাহজালাল মাজার গেট এলাকার হোটেলগুলোতে নতুন করে কক্ষ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। আগে থেকে বুকিং দেওয়া পর্যটকেরা নির্বিঘ্নে ঘোরাঘুরি করতে পারলেও শেষ মুহূর্তে আসা অনেককে আবাসনের জন্য এক হোটেল থেকে অন্য হোটেলে ছুটতে হচ্ছে।
চট্টগ্রাম থেকে আসা পর্যটক সবুজ তালুকদার বলেন, হোটেলে কোনো কক্ষ খালি পাননি। আম্বরখানা ও জিন্দাবাজার এলাকার কয়েকটি হোটেলে ঘুরেও থাকার ব্যবস্থা করতে পারেননি। বাধ্য হয়ে মাজারে অবস্থান করছেন। পরে কোনো হোটেলে কক্ষ পাওয়া যায় কি না, সেই চেষ্টা করছেন।
কুমিল্লা থেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বেড়াতে এসেছেন ঋতুপর্ণা ঘোষ। নতুন পুত্রবধূকে সঙ্গে নিয়ে প্রথমবারের মতো সিলেট ঘুরতে এসে মুগ্ধতার কথা জানান তিনি।
ঋতুপর্ণা বলেন, ছবি ও ভিডিওতে চা বাগানের যে সৌন্দর্য দেখেছেন, বাস্তবে তা আরও বেশি আকর্ষণীয়। তবে হোটেলভাড়া কিছুটা বেশি মনে হয়েছে। পাশাপাশি প্রাইভেট কারের চালকেরাও বেশি ভাড়া দাবি করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পর্যটক সিরাজুল ইসলাম বলেন, কাজের ব্যস্ততায় নিয়মিত বেড়ানোর সুযোগ হয় না। ঈদ বা পূজার ছুটি পেলে ঘুরতে বের হন। প্রথমে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে গেছেন, পরে চা বাগান দেখতে এসেছেন। সুযোগ পেলেই সিলেটে আসেন এবং এবার দুই দিন থাকার পরিকল্পনা রয়েছে।
যাতায়াত খরচের বিষয়ে তিনি বলেন, পূজার আগে যে গন্তব্যে যেতে ২ হাজার টাকা লাগত, এখন সেখানে ৪ হাজার টাকা দিতে হচ্ছে।
নিরাপত্তায় পুলিশের বিশেষ টহল
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নগরীর বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র ও আশপাশের এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. আফজাল হোসেন সিলেটভিউ২৪ডটকমকে বলেন, নিয়মিত টহলের পাশাপাশি পূজার ছুটিতে পর্যটকদের নিরাপত্তায় পুলিশের বিশেষ মোবাইল পেট্রোল টিম কাজ করছে। পর্যটনকেন্দ্রের বাইরেও পুলিশের নিয়মিত টহল অব্যাহত রয়েছে।
কোনো পর্যটক সমস্যায় পড়লে পুলিশকে জানানোর পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অথবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করা যেতে পারে।
আগাম বুকিংয়ে পূর্ণ হোটেল
সিলেট হোটেল, মোটেল অ্যান্ড গেস্ট হাউস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুমাত নূরী জুয়েল জানান, তাঁদের হোটেলের সব কক্ষ ইতোমধ্যে বুকিং হয়ে গেছে। কোনো কক্ষ খালি নেই। অনেক পর্যটক থাকার জায়গা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সরকারি ছুটির সঙ্গে ২৩ ও ২৪ অক্টোবরের সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টানা পাঁচ দিনের অবকাশ পেয়েছেন। এই ছুটিকে কেন্দ্র করেই সিলেটে পর্যটকদের আগমন বেড়েছে।
তবে পর্যটকের বাড়তি চাপের সঙ্গে আবাসনসংকট ও যানবাহনের ভাড়া বৃদ্ধির অভিযোগ যুক্ত হওয়ায় অনেকের জন্য আনন্দের ভ্রমণ হয়ে উঠছে ভোগান্তির।





