টানা পাঁচ দিনের দুর্গাপূজার ছুটিতে সিলেটে লাখো পর্যটক আসার প্রত্যাশা করছেন ব্যবসায়ীরা। মানসম্পন্ন হোটেলগুলোর ৮০–৯০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়েছে।
টানা পাঁচ দিনের দুর্গাপূজার ছুটিকে ঘিরে সিলেট অঞ্চলে পর্যটকের ব্যাপক সমাগমের প্রত্যাশা করছেন পর্যটন খাতের ব্যবসায়ীরা। তাঁদের ধারণা, এবার ছুটিতে সিলেটে লাখো পর্যটক আসতে পারেন। এরই মধ্যে সিলেটের মানসম্পন্ন অধিকাংশ হোটেলের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে। পর্যটকদের স্বাগত জানাতে হোটেল-মোটেলগুলোতে চলছে সাজসজ্জা ও সংস্কারকাজ।
পাহাড়, নদী, ঝরনা, বিস্তীর্ণ চা-বাগানসহ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে প্রতি বছর ঈদ ও দুর্গাপূজার ছুটিতে সিলেটে ভিড় করেন দেশ-বিদেশের পর্যটকেরা। এবার ছুটির দৈর্ঘ্য, অনুকূল আবহাওয়া ও দেশের স্থিতিশীল পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় নিয়ে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
অধিকাংশ হোটেলে কক্ষ বুকিং প্রায় শেষ
পর্যটন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সিলেটের মানসম্পন্ন বেশির ভাগ হোটেল-মোটেলে অনলাইনে কক্ষ বুকিংয়ের প্রবণতা রয়েছে। পূজার ছুটিকে সামনে রেখে এসব প্রতিষ্ঠানের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ কক্ষ ইতোমধ্যে বুকিং হয়ে গেছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বুকিং শতভাগে পৌঁছাতে পারে বলে আশা করছেন তাঁরা।
শুধু সিলেট নগরী নয়, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের মানসম্পন্ন হোটেল, মোটেল এবং গেস্টহাউসগুলোতেও পর্যটকদের আগ্রহ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পর্যটকদের বাড়তি চাপ সামাল দিতে আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলো প্রস্তুতি নিচ্ছে।
‘ফুল বুকড’ ব্যবসার প্রত্যাশা
সিলেট হোটেল মোটেল অ্যান্ড গেস্ট হাউস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুমাত নূরী জুয়েল বলেন, অধিকাংশ হোটেলের কক্ষ বুকিং প্রায় শেষ পর্যায়ে। এবারের দুর্গাপূজার ছুটিতে হোটেলগুলো পুরোপুরি বুকড থাকার প্রত্যাশা করছেন তাঁরা।
তিনি বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে এবং দেশের পরিস্থিতিও শান্ত। এ কারণে পরিবার নিয়ে ছুটি কাটাতে অনেকে সিলেটে আসবেন বলে আশা করছেন তাঁরা।
সুমাত নূরী জুয়েলের ভাষ্য, গত দুই থেকে তিন মাস ধরেই সিলেটে পর্যটকদের আগমন অন্যান্য সময়ের তুলনায় বেশি। দুর্গাপূজার ছুটিকে কেন্দ্র করে এ প্রবণতা আরও বাড়তে পারে।
ছুটির বাইরেও পর্যটক থাকার আশা
ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, পাঁচ দিনের সরকারি ছুটিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া পর্যটকদের আনাগোনা অন্তত ১০ দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। এতে হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন এবং পর্যটনকেন্দ্রনির্ভর অন্যান্য ব্যবসায়ও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তবে লাখো পর্যটকের সমাগমের প্রত্যাশা বাস্তবে কতটা পূরণ হবে, তা ছুটির সময়ে পর্যটকদের উপস্থিতি ও আবাসন বুকিংয়ের চূড়ান্ত হিসাব থেকে বোঝা যাবে।





