দেশের ১৩ সিটি করপোরেশনে ই-রিকশা নিবন্ধন শুরু হচ্ছে। নিবন্ধন ফি, ১২ বছরের আয়ুষ্কাল, গতিসীমা ও চলাচল নিয়ন্ত্রণের নিয়ম জানুন।
দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্যাটারিচালিত তিন চাকার ই-রিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে সোমবার (২ নভেম্বর)। নিবন্ধনের তারিখ থেকে প্রতিটি ই-রিকশার অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ বছর। নিবন্ধন, চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও অবৈধ যানবাহন ব্যবস্থাপনায় নতুন বিধিমালা কার্যকর করতে যাচ্ছে সরকার।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’ নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
নিবন্ধন ফি কত
প্রতিমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, যাত্রী ধারণক্ষমতার ভিত্তিতে ই-রিকশার নিবন্ধন ও নবায়ন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।
- দুই যাত্রীর ই-রিকশা: এককালীন নিবন্ধন ফি ৮ হাজার টাকা, বার্ষিক নবায়ন ফি ৪ হাজার টাকা।
- চার যাত্রীর ই-রিকশা: এককালীন নিবন্ধন ফি ১০ হাজার টাকা, বার্ষিক নবায়ন ফি ৫ হাজার টাকা।
জাতীয় পরিচয়পত্রধারী একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশা নিবন্ধন করতে পারবেন। তবে নিবন্ধন কার্যক্রম শেষ করার নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
মীর শাহে আলম জানান, নিবন্ধন শুরুর এক মাস পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আবার বৈঠক করে অগ্রগতি জানানো হবে। তখন কতটি ই-রিকশা নিবন্ধিত হয়েছে এবং অবৈধ যানবাহন নিয়ন্ত্রণে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা তুলে ধরা হবে।
ঢাকায় ৮ জোনে নিয়ন্ত্রিত হবে চলাচল
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকাকে আটটি জোনে ভাগ করে ই-রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি জোনের রিকশার জন্য আলাদা রং নির্ধারণ করা হবে। এতে এক জোনের ই-রিকশা অন্য জোনে চলাচল করতে পারবে না।
প্রতিটি জোনে কতটি ই-রিকশা চলবে, তা ট্রাফিক বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন আলোচনা করে নির্ধারণ করবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
সর্বোচ্চ গতি ২৫ কিলোমিটার
নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, প্রতিটি ই-রিকশায় স্পিডোমিটার স্থাপন বাধ্যতামূলক। এসব যানবাহনের অনুমোদিত সর্বোচ্চ গতি হবে ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার। তবে স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় ও জনবহুল এলাকায় সর্বোচ্চ গতি নির্ধারণ করা হয়েছে ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিবন্ধনের আগে বর্তমানে চলাচলরত ই-রিকশাগুলোকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী পরিবর্তন করতে হবে। উৎপাদনকারীদেরও ওই নকশা অনুসরণ করে ই-রিকশা তৈরি করতে হবে। শর্ত পূরণ করার পরই নিবন্ধন দেওয়া হবে।
আপাতত বন্ধ হচ্ছে না চলমান ই-রিকশা
বর্তমানে চলাচলরত ই-রিকশা তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করা হবে না বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, নিবন্ধন পর্যায়ক্রমে দেওয়া হবে এবং পরবর্তী সময়ে অবৈধ ই-রিকশা অপসারণ করা হবে। এ কারণে মালিকদের এখনই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।
চালকদের জন্য আপাতত ড্রাইভিং লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে না। নিবন্ধন কার্যক্রম কিছুটা এগিয়ে গেলে এ বিষয়ে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করে পর্যায়ক্রমে চালকদের লাইসেন্সের আওতায় আনা হবে।
চার্জিং স্টেশন থেকে ব্যাটারি চার্জ করতে হবে
ই-রিকশার ব্যাটারি নির্ধারিত চার্জিং স্টেশনে চার্জ করতে হবে। অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ব্যাটারি চার্জ দেওয়া হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
নির্দিষ্ট স্থানে চার্জিং স্টেশন স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হবে। এসব স্টেশনে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের ব্যবস্থা করতে পারলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। সিটি করপোরেশনের ম্যাজিস্ট্রেটরা এ কার্যক্রম নিয়মিত তদারক করবেন।
আইনি কাঠামোর আওতায় আসছে ই-রিকশা
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন শহরে ব্যাটারিচালিত রিকশা আইনগত নিবন্ধন ছাড়াই চলাচল করছে। সিটি করপোরেশন আইন, ২০০৯ সংশোধনের মাধ্যমে ই-রিকশা নিবন্ধনের আইনি ভিত্তি তৈরি করা হয়েছে। ওই আইনের ১২০ ধারার আলোকে নতুন বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে ই-রিকশার নিবন্ধন, কারিগরি মান, গতি, চার্জিং এবং চলাচল নিয়ন্ত্রণকে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।





