ফেনীতে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার তাঁতী দল নেতা

ফেনীতে নিখোঁজের তিন দিন পর আহত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছেন সোনাগাজী উপজেলা তাঁতী দলের নেতা আবদুল্লা আল আমিন। তাঁর হাত-পা রশি দিয়ে বাঁধা ছিল।

ফেনীতে নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর আহত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছেন সোনাগাজী উপজেলা তাঁতী দলের সদস্যসচিব মো. আবদুল্লা আল আমিন (৩০)। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে ফেনী সদর উপজেলার কালিদহ ইউনিয়নের হাফেজিয়া ভাঙার তাকিয়া এলাকার একটি ঝোপ থেকে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় তাঁর শরীর ও হাত-পা রশি দিয়ে বাঁধা ছিল।

স্থানীয় লোকজন ঝোপের ভেতর থেকে গোঙানির শব্দ শুনে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে ফেনী মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে। পরে তাঁকে ফেনী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সিএনজিতে বেরিয়ে আর ফেরেননি

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় সোনাগাজীর উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন আবদুল্লা আল আমিন। এরপর আর বাড়িতে ফেরেননি তিনি। ওই দিন রাত ১০টার দিকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন নম্বরই বন্ধ পাওয়া যায়।

তাঁর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় শুক্রবার সোনাগাজী মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তাঁর চাচি কামরুন নাহার।

আবদুল্লা আল আমিন সোনাগাজী উপজেলার উত্তর মঙ্গলকান্দি এলাকার লোকুর দোকানসংলগ্ন আলী আজ্জম মৃদ্ধা বাড়ির মৃত আবদুর রশিদের ছেলে।

শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন থাকার দাবি

আবদুল্লা আল আমিনের চাচা আব্দুল হক নোমান জানান, তাঁকে উদ্ধারের খবর পুলিশ পরিবারের সদস্যদের জানায়। পরে তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

আব্দুল হক নোমানের ভাষ্য, আল আমিনের শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে এবং তিনি কথা বলতে পারছেন না। সুস্থ হওয়ার পর তাঁর সঙ্গে কী ঘটেছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা জানা যেতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

রাজনৈতিক মামলার কথাও জানাল পরিবার

পারিবারিক সূত্রের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আবদুল্লা আল আমিনের বিরুদ্ধে ২১টি মামলা হয়েছিল। এর মধ্যে একটি মামলায় তাঁর আট বছরের সাজা হয় বলে পরিবার জানিয়েছে। ওই সময় তাঁর স্ত্রী এক সন্তানকে নিয়ে তাঁকে ছেড়ে চলে যান বলেও সূত্রটি উল্লেখ করেছে।

তবে তাঁকে কারা, কী কারণে এবং কোথা থেকে অপহরণ করে ঝোপে ফেলে গেছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও পুলিশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।