বাপ্পারাজকে নিয়ে ফেসবুক পোস্টে পুরোনো দিনের স্মৃতি, বন্ধুত্ব ও দুষ্টুমির গল্প তুলে ধরেছেন অভিনেতা ওমর সানী।
ঢালিউডের দুই পরিচিত অভিনেতা ওমর সানী ও বাপ্পারাজের বন্ধুত্বের গল্প আবারও উঠে এসেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। দীর্ঘদিন একসঙ্গে সিনেমায় কাজ করার সুবাদে তাঁদের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে পর্দার বাইরেও। সেই বন্ধুত্বে যেমন রয়েছে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, তেমনি আছে হাসি-ঠাট্টা আর পুরোনো দিনের মজার স্মৃতি। সম্প্রতি বাপ্পারাজকে নিয়ে দেওয়া এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে এসব কথাই তুলে ধরেছেন ওমর সানী।
বন্ধুকে প্রশংসায় ভাসানোর পাশাপাশি তাঁর দুষ্টুমির কথাও মজার ছলে উল্লেখ করেছেন এই অভিনেতা। ওমর সানীর মতে, তাঁদের কাজের সময় মোবাইল ফোন থাকলে বাপ্পারাজের দুষ্টুমির অনেক ঘটনাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যেত।
সহকর্মী থেকে কাছের বন্ধু
ওমর সানীর কাছে বাপ্পারাজ কেবল চলচ্চিত্রের সহকর্মী নন, ব্যক্তিগত জীবনেও ঘনিষ্ঠ একজন মানুষ। তাঁর স্ত্রী চিত্রনায়িকা মৌসুমীর সঙ্গেও বাপ্পারাজের ভালো সম্পর্ক রয়েছে। দীর্ঘদিন একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে তাঁদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আন্তরিকতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার বন্ধন।
ফেসবুক পোস্টে বাপ্পারাজকে নিয়ে ওমর সানী লিখেছেন, ‘একজন বাপ্পারাজ, একজন ভালো মানুষ, একজন ভালো বন্ধু এবং দুষ্টু বন্ধু, হাসিখুশি বন্ধু।’
বাপ্পারাজ চিত্রনায়ক রাজ্জাকের ছেলে এবং নিজেও প্রতিষ্ঠিত অভিনেতা। তবে এই পরিচয় কখনো কাজের ক্ষেত্রে তাঁকে আলাদা করে রাখেনি বলে জানিয়েছেন ওমর সানী। বরং একসঙ্গে অভিনয়ের অভিজ্ঞতায় বাপ্পারাজের পেশাদার মনোভাব তাঁকে মুগ্ধ করেছে।
ওমর সানীর ভাষায়, ‘আমি মাঝেমধ্যে অবাক হতাম, উনি নায়করাজের সন্তান এবং একজন ভালো আর্টিস্ট, উনি কেন আমাদের সঙ্গে কাজ করবেন? কিন্তু দিন শেষে উনি বলতেন, কাজটাই হচ্ছে আসল।’
সহকর্মীর এই দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করে ওমর সানী বুঝিয়েছেন, চলচ্চিত্রে পারিবারিক পরিচয় কিংবা অবস্থানের চেয়ে কাজের গুরুত্বই বড়।
শুটিংয়ে দুষ্টুমিতে মাতিয়ে রাখতেন বাপ্পারাজ
বাপ্পারাজের ব্যক্তিত্ব ও অভিনয়গুণের প্রশংসার পাশাপাশি তাঁর রসিক স্বভাবের কথাও স্মরণ করেছেন ওমর সানী। একসঙ্গে কাজ করার সময় বাপ্পারাজের দুষ্টুমি শুটিংয়ের পরিবেশকে প্রাণবন্ত করে তুলত বলে তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে।
পুরোনো দিনের সেই স্মৃতি টেনে ওমর সানী লিখেছেন, ‘আর এত দুষ্টুমি করতেন, এখনো করেন। ওই আমলে যদি এই মোবাইল থাকত, তাহলে দুষ্টুমির চরম ভাইরাল হতাম আমি।’
বন্ধুকে নিয়ে এমন স্মৃতিচারণা এবারই প্রথম নয়। ২০২৩ সালেও বাপ্পারাজকে নিয়ে ফেসবুকে লিখেছিলেন ওমর সানী। সেবার নিজের জীবনে ও সাফল্যের পথে বাপ্পারাজের অবদানের কথা উল্লেখ করার পাশাপাশি তাঁর মার্জিত আচরণ, অভিনয়দক্ষতা ও বন্ধুত্বের প্রশংসা করেছিলেন। বাপ্পারাজের সামনে গেলে নিজের বয়স যেন ২২ বছর মনে হয়—এমন কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।
বদ অভ্যাস নেই, বন্ধুকে স্যালুট
এবারের পোস্টে বাপ্পারাজের ব্যক্তিগত অভ্যাস নিয়েও প্রশংসা করেছেন ওমর সানী। বন্ধুর প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘বাপ্পারাজ ভাই, আপনাকে একটা কারণে স্যালুট, কোনো বদ অভ্যাস আপনার নাই। আপনার কাছে বরঞ্চ আমরা খারাপ।’
বন্ধুর প্রতি এই শ্রদ্ধার পাশাপাশি নিজের প্রজন্মের একজন অভিনেতা হিসেবে বাপ্পারাজকে নিয়ে গর্বের কথাও জানিয়েছেন তিনি। পোস্টের শেষ দিকে ওমর সানী লেখেন, ‘আমার জেনারেশনে আমি বাপ্পারাজকে নিয়ে গর্ব করি। দিন শেষে বলি, আপনি অনেক দুষ্টু।’
চলচ্চিত্রে দীর্ঘদিন একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে অনেক সহকর্মীর মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হলেও সময়ের সঙ্গে সব সম্পর্ক একই রকম থাকে না। তবে ওমর সানীর এই স্মৃতিচারণায় স্পষ্ট, বাপ্পারাজের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্বে এখনো অটুট রয়েছে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও প্রাণখোলা হাসিঠাট্টা। তারকাখ্যাতির বাইরেও এই সম্পর্কই তাঁদের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে।





