নির্বাচনী প্রচার ও প্রস্তুতির শেষ পর্যায়ে এসে থমকে গেল নিউইয়র্কের প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহৎ সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটি ইনক এর নির্বাচন। আগামী ২৫ অক্টোবর, রোববার অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন নিউইয়র্কের কুইন্স কাউন্টি সুপ্রিম কোর্ট।
ভোটের দুই দিন আগে আদালতে আটকে গেল বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন
কুইন্স কাউন্টি সুপ্রিম কোর্টের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা, পরবর্তী শুনানি ৫ নভেম্বর
নিউইয়র্ক, ২৪ অক্টোবর:
নির্বাচনী প্রচার ও প্রস্তুতির শেষ পর্যায়ে এসে থমকে গেল নিউইয়র্কের প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহৎ সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটি ইনক এর নির্বাচন। আগামী ২৫ অক্টোবর, রোববার অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন নিউইয়র্কের কুইন্স কাউন্টি সুপ্রিম কোর্ট।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নির্বাচন পরিচালনা, ভোটকেন্দ্র খোলা, ভোটগ্রহণ, ব্যালট গণনা এবং ফলাফল অনুমোদন বা ঘোষণা করা যাবে না। ২৩ অক্টোবর নথিভুক্ত তিন পৃষ্ঠার এই আদেশে জরুরি বিচারক হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন বিচারপতি চেরি এ. বাগস।
মামলাটি দায়ের করেছেন সংগঠনের সাবেক কর্মকর্তা ওসমান এ. চৌধুরী। মামলা নম্বর ৭৩২১৭৪/২০২৬। বিবাদী করা হয়েছে বাংলাদেশ সোসাইটি ইনকরপোরেশন এবং সংগঠনের প্রেসিডেন্ট আতাউর রহমান সেলিম, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, কোষাধ্যক্ষ মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু নাসেরকে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ওসমান চৌধুরী ২০২৬ সালের নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদন ও ২০ ডলার ফি জমা দিয়েছিলেন। তবে গত ২৮ আগস্ট কার্যনির্বাহী কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে তার সাধারণ সদস্যপদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে। প্রত্যাখ্যানপত্রে সংগঠনের সঙ্গে চলমান মামলা এবং গঠনতন্ত্রের আর্টিকেল ৯, সেকশন ৬ এর কথা উল্লেখ করা হয়।
বাদীপক্ষের দাবি, প্রতিহিংসামূলকভাবে তার সদস্যপদ আটকে দিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি ২৮ আগস্টের সিদ্ধান্ত বাতিল, বিতর্কিত সাংবিধানিক ধারাকে অকার্যকর ঘোষণা, বৈধ সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্তি এবং সভাপতি পদে প্রার্থিতার যোগ্যতার স্বীকৃতি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। আদালত আপাতত ২৮ আগস্টের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।
শুধু ভোট স্থগিতই নয়, আদালত সংশ্লিষ্ট সব নথি সংরক্ষণেরও কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে মূল ভোটার রেজিস্ট্রি, সদস্যপদের আবেদনপত্র, চাঁদা পরিশোধের রেকর্ড, ভোটার তালিকা ও নির্বাচনী ব্যালট।
এবারের নির্বাচনে ৩৫ হাজার ২১৫ জন নিবন্ধিত ভোটারের পাঁচটি কেন্দ্রে সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ভোট দেওয়ার কথা ছিল। কার্যনির্বাহী পরিষদের ২১টি পদের জন্য দুটি প্যানেলের ৪২ জন এবং স্বতন্ত্র একজনসহ মোট ৪৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন।
আদেশের পর শুক্রবার রাতেই সোসাইটির কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু নাসের জানান, আদালতের নির্দেশ ও পরবর্তী করণীয় নিয়ে বিস্তারিত জানানো হবে। নির্বাচন কমিশন ও সোসাইটির কর্মকর্তারা আইনিপদক্ষেপের মাধ্যমে তা মোকাবেলা করবেন বলে জানান।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালেও ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগে মামলার জেরে শেষ মুহূর্তে স্থগিত হয়েছিল বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন। পরে আইনি লড়াই শেষে কোর্টের নির্দেশ মোতাবেক ২০২৪ সালে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আট বছর পর আবারও একই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় কমিউনিটিতে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। একই ব্যক্তি দ্বারা সোসাইটির প্রচুর অর্থ অপচয়ের জন্য কমিউনিটির অনেক ব্যক্তিবর্গ সমালোচনা করছেন। অনেকে শংকা প্রকাশ করছেন নির্বাচন কবে হবে বা আদৌও কি হবে?
পরবর্তী শুনানি নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ নভেম্বর সকাল ১০টায়, কুইন্স সুপ্রিম কোর্টের পার্ট ২৩, কক্ষ ১৪০ এ। সেদিন বিবাদীপক্ষ তাদের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ পাবেন। নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে, সংশোধন হবে নাকি প্রত্যাহার করা হবে, তা নির্ভর করছে আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর। নতুন ভোটের তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি।





