বিদেশে বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার তথ্য চায় ঢাকা

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় তথ্য আদান-প্রদানে সম্ভাব্য ঘাটতি নিয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে ঢাকা। জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

বিদেশে কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যক্রম শুরু হলে সংশ্লিষ্ট দেশ বাংলাদেশ সরকারকে তা জানাবে—এমন প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় তথ্য আদান-প্রদানে সম্ভাব্য ঘাটতি নিয়ে দেশটির কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে ঢাকা।

সোমবার (২০ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। তাঁর মতে, এ ধরনের তথ্য আগে থেকে জানানো হলে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি নাগরিককে প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সহায়তা দেওয়া সম্ভব হবে।

তথ্য আদান-প্রক্রিয়া নিয়ে সৌদির কাছে ব্যাখ্যা চায় ঢাকা

হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশে কোনো সৌদি নাগরিক ফৌজদারি অভিযোগে গ্রেপ্তার হলে সৌদি কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হবে, যাতে তারা ওই নাগরিককে কনস্যুলার সহায়তা দিতে পারে। একইভাবে সৌদি আরবসহ অন্যান্য দেশেও বাংলাদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যক্রম শুরু হলে বাংলাদেশকে অবহিত করা উচিত বলে মনে করে ঢাকা।

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তথ্য আদান-প্রদানের প্রক্রিয়ায় ঘাটতি হয়ে থাকতে পারে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাখ্যা চাইছে এবং কোথায় ঘাটতি হয়েছে, তা নির্ধারণে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে।

তিনি বলেন, সৌদি আরবের নিজস্ব আইন রয়েছে এবং দেশটিতে অবস্থানরত প্রত্যেক ব্যক্তিকে সেই আইন মেনে চলতে হয়। বাংলাদেশের উদ্বেগ মূলত তথ্য আদান-প্রদান, যোগাযোগ এবং এ-সংক্রান্ত বিদ্যমান প্রক্রিয়া নিয়ে।

অপরাধের ঘটনায় হতাশা প্রকাশ

প্রতিবেদনে উল্লিখিত অপরাধের ঘটনায় গভীর হতাশা প্রকাশ করেন হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, ধর্মীয় উদ্দেশ্যে মানুষ যে পবিত্র স্থান পরিদর্শন করেন, সেখানে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া গ্রহণযোগ্য নয়।

সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।

বাকু ও বাগদাদ সফরে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা

বিদেশ সফরের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, তিনি আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে এশিয়ায় পারস্পরিক সহযোগিতা ও আস্থা জোরদারবিষয়ক সম্মেলনের (সিআইসিএ) শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেন। পরে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের বৈঠকে যোগ দিতে ইরাকের রাজধানী বাগদাদে যান।

সফরকে ফলপ্রসূ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন বৈঠকের ফাঁকে আন্তর্জাতিক অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশের বিষয়ে উল্লেখযোগ্য আগ্রহ দেখা গেছে।

ওআইসির বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সদস্য দেশগুলোর আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী জানান, গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যৌথভাবে রোহিঙ্গাদের জবাবদিহি নিশ্চিতকরণবিষয়ক একটি বিশেষ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে তিনি সহসভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি শান্তি প্রতিষ্ঠায় ওআইসির সদস্য দেশগুলোর সমন্বিত ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়।

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি উদ্যোগে বাংলাদেশের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়নি

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতার আলোকে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার কোনো উদ্যোগে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না, জানতে চান সাংবাদিকেরা।

জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, সফরকালে এ ধরনের কোনো সুনির্দিষ্ট উদ্যোগে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে উল্লেখযোগ্য আলোচনা হয়নি।